চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল, পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ...।’ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পঙক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কিছুদিন। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে জেলার সদর ও শিবগঞ্জে সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে আসতে শুরু করেছে মুকুল। ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা।
এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। ইতোমধ্যে গুটি, লক্ষনভোগ,আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাত গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তবে গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও দু-এক সপ্তাহ লাগবে। এমনটিই জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম।
শিবগঞ্জের বহলাবাড়ি এলাকার বাগান মালিক লতিফুর রহমান ও আবু তাহের জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে গাছে মুকুল বের হচ্ছে। তারা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করছেন। তারা আরও জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) বুলবুল আহমেদ জানান, দুই সপ্তাহ ধরে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পুরোপুরি মুকুল আসা শুরু করবে।
তিনি আরও জানান, মুকুল আসার সময় যদি কুয়াশা থাকে তবে ফাঙ্গাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। তাই কৃষকদের এ সময় কৃষকদের ডিটারজেন ও ছাত্রাকনাশক মিশিয়ে গাছে পানি স্প্রে করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।