খেলনা বন্দুক আছে, ট্রিগার ছোঁয়ার শিশুটি নেই

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের ২৬ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনই শিশু। এই শিশুরা ছিল তাদের মা-বাবার সঙ্গে। কারও মা-বাবা বেঁচে ফিরলেও নদীতে তলিয়ে মারা গেছে শিশু সন্তান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাসটি উদ্ধারের পর সামনে আসে যাত্রীদের ব্যক্তিগত ব্যাগসহ নানা জিনিসপত্র। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, একটি লাল-কালো খেলনা বন্দুক।
তবে জানা যায়নি এই বন্দুকটির মালিকের পরিচয়। উৎসুক জনতা বলছেন, এটা হয়তো কোনো শিশুকে খেলার জন্য কিনে দিয়েছিলেন মা-বাবা। কিন্তু শিশুটি বেঁচে আছে কি না, জানা নেই। বেঁচে না থাকলে তার ছোট্ট হাত কখনো স্পর্শ করবে না বন্দুকটির ট্রিগার।
এছাড়াও ব্যাগের স্তূপের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মেয়েদের। প্রত্যেক ব্যাগেই লেগে আছে কাদামাটি। আবার কোথাও কোথাও পড়ে আছে জুতা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১১ নারী, ৮ শিশু ও ৭ পুরুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।