logo

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়ম লঙ্ঘন পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়ম লঙ্ঘন পেয়েছে তদন্ত কমিটি

বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনার তদন্তে তিন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রতিষ্ঠিত রেল বিধিমালার লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএম ফরিদ আহম্মেদ।  

এর আগে চলতি বছরের ১৮ মার্চ দুপুরে ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচলকারী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেদিনই রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করা হয়।

গত রোববার (২৯ মার্চ) এই দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কমিটির সদস্য রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম। তিনি জানান, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আমরা রেলের ডিজি বরাবর পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা সেখান থেকে জানানো হবে।

তদন্তের বিষয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম ফরিদ আহম্মেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব অবহেলা ছিল। আমাদের যে এস্টাবলিশড রুল আছে সেটা লঙ্ঘন করা হয়েছে। রেলওয়ের কোনো জায়গায় যদি কাজ করতে হয়, তাহলে স্টেশন মাস্টারকে একটা অর্ডার ওপিটি ফর্ম ইস্যু করতে হয়। এটা ইস্যু করলে স্টেশন মাস্টার গাড়ির চালককে দিত। স্টেশন মাস্টার এই ফর্মটা যদি দিত তাহলে লোকোমাস্টারের জানা থাকতো যে এখানে কাজ হচ্ছে। কাজ হলে ওখানে স্পিড রেস্ট্রিকশন থাকে। গতি নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেখানে ১০ কিলোমিটার বা ২০ কিলোমিটার এরকম থাকে। এটা জানা থাকলে আগে থেকেই ওই লোকোমাস্টার সচেতনভাবে ওখানে কাজ করতে পারত।

লোকোমাস্টারের ভুলের বিষয়ে রেলের জিএম বলেন, যেহেতু তাকে (লোকোমাস্টার) সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, সামনে কি আছে না আছে। একটা লোকোমোটিভ থেকে অনেক দূরেই দেখা যায়। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে আগে থেকে রেলের কর্মীরা কাজ করছিল রেললাইনে। ওখানে ফ্ল্যাগ ছিল, ফ্ল্যাটটা এডিকুয়েট ডিস্টেন্সে ছিল না। তারপরেও ফ্ল্যাগ একটু খেয়াল করলে দেখা যেত। এটাও চালকেরও ভুল ছিল।

জিএম ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের যে কর্মকর্তা ওখানে দায়িত্বে ছিলেন, উনিও সঠিক দূরত্বে ফ্ল্যাগ প্রদর্শন করেননি। যে দূরত্ব আমাদের রুলে বলা আছে, সেই অনুযায়ী ছিল না। এই কারণে ওখানে তদন্ত কমিটি তিন পর্যায়ে (রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, লোক মাস্টার ও স্টেশন মাস্টার) দায়িত্বের অবহেলার কথা বলেছেন।

ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অফিশিয়াল যে রুল আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এটার জন্য আলাদা কমিটি হবে। অফিশিয়াল যে প্রসিডিং হয়, সেই অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গেল ১৮ মার্চ দুপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পরপরই বাগবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় ১১২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে  ভর্তি হন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। দুর্ঘটনার ফলে ওই রুটে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা-রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল ও সাতটি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা মেরামতের পর রেল যোগাযোগ চালু করে কর্তৃপক্ষ।