বাগেরহাটে বেড়েছে চুইঝালের চাহিদা-দাম

কোরবানির ঈদ এলেই বাগেরহাটের রান্নাঘরে বাড়ে চুইঝালের কদর। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই মসলা ছাড়া গরুর মাংসের স্বাদ যেন অপূর্ণ মনে করেন অনেকেই। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে চুইঝালের চাহিদা, সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে চুইঝালের দোকানগুলো।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বহু বছর ধরে মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে গরু ও হাঁসের মাংসে এটি এনে দেয় ভিন্ন স্বাদ। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল-মশলা হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ৩২ হেক্টর জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৬৮ টন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বাগেরহাটে চুইঝাল চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়তি জমির প্রয়োজন হয় না; ঘরের আশপাশে আমসহ বিভিন্ন গাছে সহজেই এর চাষ করা যায়। বাজারে চাহিদা ও দাম বাড়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি চুইঝালের রয়েছে ঔষধি গুণও। এটি কাশি, অ্যাজমা ও বিভিন্ন ব্যথা উপশমে সহায়ক। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসছেন। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাগেরহাট শহরের চুইঝাল বিক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কেজি চুইঝাল বিক্রি হলেও ঈদের সময় তা বেড়ে ২০ থেকে ৩০ কেজিতে পৌঁছায়। আগে চিকন চুইঝাল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় আকারের চুইঝাল ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সাইজভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
বরিশাল থেকে চুইঝাল কিনতে আসা কামাল শেখ বলেন, চুইঝাল ছাড়া গরুর মাংসের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। ঈদের মাংস চুইঝাল দিয়ে রান্না করতেই হবে, তাই দাম বেশি হলেও কিনেছি।
ফকিরহাট উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রামের পাইকারি বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, বাগেরহাটের চুইঝালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একটি গাছ থেকে পরিণত চুইঝাল সংগ্রহ করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা এমনকি বিদেশ থেকেও তার কাছে অর্ডার আসে। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনেও খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চুইঝালের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগে যে চুইঝাল ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের সময় দাম আরও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ে। চুইঝাল মাংসের স্বাদ বাড়ায় এবং কোরবানির মাংস রান্নায় এটি ব্যবহার করলে স্বাদ একেবারেই আলাদা হয়ে ওঠে।
