logo

সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ হান্নান মাসউদের

সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ হান্নান মাসউদের

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নির্বাচনি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের চম্পা ঘাট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পোলিং এজেন্ট মো. ইসমাইলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় উপজেলার বুড়িরচর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নে এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসউদের কর্মী সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা এবং দোকানে লুটপাট অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ছাত্রদল কর্মী ফারাবি ও ইয়াছিন আলি সুজন অতর্কিতভাবে এনসিপির পোলিং এজেন্ট মো. ইসমাইলকে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর একাধিক বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। 

এ ঘটনায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, “হাতিয়ার বুড়িরচর, সোনাদিয়া ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। যারা মূলত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ছিল, তারা এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে হামলা, লুটতরাজ ও গুলিবর্ষণ করছে। হাতিয়ার মানুষ আজ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রত্যক্ষ মদদে এই সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম করছে। বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে হান্নান মাসউদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একটি ভিডিও বার্তায় এনসিপির এই নেতা বলেন, অবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ভোটারদের জানমালের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামীকালের মধ্যে হাতিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করতে হবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোস্টগার্ডের টহল টিম ও পুলিশের একটি টিম মোতায়েন রয়েছে।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সামান্য হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের পুলিশের একটি টিম ও কোস্ট গার্ডের একটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

তবে হান্নান মাসউদের করা হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন পুলিশের এই কর্তকর্তা। বলেন, কোন ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।