শতবর্ষী সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে শতবর্ষী আড়ানী রেলওয়ে সেতু। বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়ে গেছে স্লিপার, জয়েন্টের নাট নেই, লাইনে নেই ক্লিপ-হুক ও ফিশপ্লেটও। এ অবস্থায় শত বছর পুরোনো সেতুটি দিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শতবর্ষী রেল সেতুটি সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।
রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে। ব্রিটিশ শাসনামলে হার্ডিঞ্জ সেতু চালুর পর ১৯২৪ সালে রাজশাহীর আড়ানীতে বড়াল নদের ওপর রেল সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়, শেষ হয় ১৯২৭ সালে। শতবর্ষী রেল সেতুটির পিলারে ফাটলসহ রেললাইন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন এক আতঙ্কের নাম। ঝুঁকি নিয়ে ১৫টি ট্রেন প্রতিদিন ৩০ বার রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।
সম্প্রতি চারঘাট ও বাঘা উপজেলাসংলগ্ন আড়ানী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির পশ্চিম পাশের প্রথম পিলারের মাঝখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। শঙ্কার বিষয় হলো, স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকানোর জন্য দুই পাশে আটটি করে পিন দেওয়ার কথা থাকলেও কোনোটাতে দুটি, কোনোটাতে তিনটি, আবার কোনোটাতে একটিও নেই। লাইনের গোড়ায় ফিশপ্লেটে চারটি নাটবল্টু থাকার কথা; কিন্তু অধিকাংশ স্লিপারে তা নেই। বহু যুগের পুরোনো স্লিপারের বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।
রেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, সেতুটিতে স্লিপার ব্যবহার হয়েছে ২৬২টি। সেখানে দুই হাজার ৯৮টি ক্লিপ থাকার কথা। কিন্তু অর্ধেকেরও কম রয়েছে। ৬০টি স্লিপারে অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কাঠের অধিকাংশ স্লিপার ক্ষয়ে গেছে। পিলারের গোড়ায় কয়েক বছর আগে পাথর ফেলা হয়। এখন পাথর, মাটি কিছুই নেই।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহে তিনবার রেললাইন ভেঙে গেছে। মাঝেমধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটছে। এ জন্য ট্রেন গতি কমিয়ে ঘণ্টায় ২৫-৩০ কিলোমিটার চালানো হচ্ছে।
আড়ানী স্টেশন মাস্টার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সেতু দিয়ে ঢাকাগামী বনলতা, সিল্কসিটি, পদ্মা, ধূমকেতু ও মধুমিতা এক্সপ্রেস; খুলনাগামী কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস; রংপুরগামী তিতুমীর, বরেন্দ্র ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল করে। রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ রক্ষায় সেতুটি একমাত্র মাধ্যম।
কশী রেলওয়ে বিভাগের সেতু প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কর্মীরা রেল সেতুটির দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখে। কোনো ত্রুটি পেলে তাৎক্ষণিক মেরামত করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডাবল রেললাইন উন্নীতকরণের প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ওই প্রকল্পে আড়ানী রেল সেতু নতুন করে নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়টিও আছে। কাজ শুরু হলেই সমস্যা থাকবে না।