ঘাট পরিদর্শনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম অন্য পাঁচ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যান। এ সময় তারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে তদন্ত দলটি দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে। সেখানে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান মো. মুহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল পুনরায় মরদেহ অনুসন্ধানে নামে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো মরদেহ ভেসে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
তবে ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের খোঁজে অপেক্ষমাণ স্বজনদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।