logo

মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি হারুন-আল-রশিদ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি হারুন-আল-রশিদ
হারুন-আল-রশিদের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য হারুন-আল-রশিদকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুর কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে, দুপুর সোয়া ২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও তার নির্বাচনী এলাকা সদর, বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিদ্যালয় মাঠ পেরিয়ে অনেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করেন। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন প্রয়াত নেতার বাড়ির পাশের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাকারিয়া।

জানাজার আগে অনুষ্ঠিত শোকসভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ সময় জেলা বিএনপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

হারুন-আল-রশিদের জানাজা নামাজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
হারুন-আল-রশিদের জানাজা নামাজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন হারুন-আল-রশিদ। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা এবং বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জীবনের শেষ কয়েক বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার নিজ বাসভবন ‘নরসিংসার হাউসে’ কাটিয়েছেন হারুন-আল-রশিদ। এই বাড়ি থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবেও তিনি এখানে বসবাস করেছেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এই বাড়ি থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রীরা।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন হারুন-আল-রশিদ। সে সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের একজন পরিচিত আইনজীবী ছিলেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০৯ সালে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

হারুন-আল-রশিদ ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ত্রাণ ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় সরকারের সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হারুন-আল-রশিদের বাবা আবদুল বারিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের মোক্তার ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দীর্ঘদিন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দুইবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।