Advertisement

বগুড়ায় সাত শ্রমিক নিহত/বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণ শুরু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া
বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণ শুরু
স্পিডব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।

এদিন সকাল ছয়টা থেকে দুর্ঘটনাস্থলে অবরোধ চলায় নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। অবরোধ প্রত্যাহারের পর সকাল সোয়া ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের সামনে এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের সামনে দিনমজুর শ্রমিকের হাট বসে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এত দিন কোনো স্পিডব্রেকার ছিল না। বিদ্যালয় ও শ্রমিকের হাট থাকার বিষয়ে চালকদের সতর্ক করতে প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্নও ছিল না।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে স্পিডব্রেকার নির্মাণের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষের নিয়মিত চলাচল থাকলেও নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।

বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী বাসটি এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তিদের সবাই দিনমজুর। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। আহত অন্তত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, নিহত সাতজনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।