Advertisement

৩২ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজবাড়ী
৩২ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন
দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে ৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র একজন। তবে ওই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং সে বছর মাত্র দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।

Advertisement

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে তা জানা যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল থেকে মোট ৩৩ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। এর মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকায় ৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে ওই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালে মাত্র দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিলেন এবং বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা ২০২৬ সালে দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফলে ২০২৬ সালে বিদ্যালয়টির ৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক হতাশা।

বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের স্কুলটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে না। তারা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং ক্লাসে মনোযোগী নয়। এবারের ফলাফল আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকায় ৩২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। একজন পাস করেছে। তবে সে ২০২৫ সালের পরীক্ষার্থী ছিল এবং তখন দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। এবার বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি নদীভাঙনকবলিত একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। এখানকার অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে পড়াশোনার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব নেই। তারা ফেসবুক ও টিকটকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক অভিভাবকও সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে স্থানীয়দের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয় :