মাটি-খড় নয়, সাড়ে ৫ হাজার ককশিটে দুর্গাপ্রতিমা

প্রচলিত মাটি বা খড়ের প্রতিমার বদলে এবার সোলার ককশিটে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। সঙ্গে থাকছে ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও বিশেষ লাইটিং শো। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে ঘিরে দুর্গাপূজার আগেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আমিয়ান বাথানডাঙা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে।
আমিয়ান বাথানডাঙা এলাকায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকদের দাবি, এটি সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম বৃহৎ পূজার আয়োজন। এবার প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার সোলার ককশিট। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় যুবকেরা।
আমিয়ান যুব সংঘের সহসভাপতি প্রতীপ ঘোষ বলেন, এবার তাদের উদ্যোগে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সোলার ককশিটের প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপে থাকছে ভাসমান সেতু ও ডিজিটাল আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে থাকবে বিশেষ লাইটিং শো।
যুব সংঘের সহসাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, মানুষকে ব্যতিক্রমী কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই সোলার ককশিট দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপ এলাকায় ভাসমান সেতু, ডিজিটাল লাইটিং, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শিবমন্দিরও রয়েছে।
প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মালঞ্চ রানী ঘোষ বলেন, প্রতিমার কাজ শেষ হওয়ার আগেই মানুষ দেখতে আসছেন। সোলার ককশিটের প্রতিমা, সেতু ও আলোকসজ্জা এবারের আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
বিপুল দর্শনার্থীর কথা মাথায় রেখে মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
আমিয়ান গৌরী মঠের পূজারি শ্যামল সরকার জানান, এবার এখানে পঞ্চমবারের মতো পূজা হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী আসবেন বলে তারা আশা করছেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। প্রতিমাশিল্পীকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবারের পূজার বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। গ্রামবাসী, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারি অনুদান থেকে এ অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে বলে জানান আমিয়ান যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় ঘোষ।
কালিগঞ্জ উপজেলায় এবার ৫৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে আমিয়ান বাথানডাঙাসহ কয়েকটি মণ্ডপে দর্শনার্থীর চাপ বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
আমিয়ান যুব সংঘের সহকোষাধ্যক্ষ রাকেশ ঘোষ বলেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য সেতুর ভেতর দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাইটিং ও সাউন্ড সিস্টেমও থাকছে আকর্ষণীয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মিলন কুমার ঘোষ বলেন, আমিয়ান বাথানডাঙার আয়োজনটি উপজেলার অন্যতম বড় আয়োজন। সোলার ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও দৃষ্টিনন্দন লাইটিং এবার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ।
ব্যতিক্রমী প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় আমিয়ান বাথানডাঙার পূজামণ্ডপ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শারদীয় দুর্গোৎসবে এ আয়োজন সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে নজর কাড়বে।
