logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ ৬ নেত্রীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ ৬ নেত্রীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। এবার নারী আসনগুলো নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। 

সংরক্ষিত নারী আসনে আগের মতো এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে একজন সংসদ সদস্য (এমপি) বেছে নেওয়া হবে বলে আশা করছেন নেত্রীরা। ফলে এই আসন নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই একটি আসন পেতে অন্তত ছয়জন নেত্রী তোড়জোড় শুরু করেছেন।  

দলীয় সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ার পর থেকেই সরব হয়েছেন সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে কোনো কোনো নেত্রী কেন্দ্রে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি দেখাচ্ছেন, আবার কেউ সংগঠনের অতীত ভূমিকা তুলে ধরছেন বিভিন্ন মহলে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ডের ওপর।

আলোচনায় যারা-

সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির তালিকায় যে কয়জনের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এ নেত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তৃণমূলেও রয়েছে তার কদর।

অ্যাডভোকেট পাপিয়া বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। তাছাড়া আমি তো সাবেক সংসদ সদস্য। তাই নতুন করে আমার যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার মতো আর কিছুই তো অবশিষ্ট নেই।

মাসউদা আফরোজ হক শুচি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন এই নেত্রী। তিনি জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির দুর্দিনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় তিনি জেলাব্যাপী পরিচিত মুখ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তার পক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সরব।

শুচি এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিলে নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এখানে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করায় নির্যাতিত হয়েছি, এমনকি ওই সময়ের নির্যাতনে আমার স্বামী পঙ্গু হয়েছেন। আমি শতভাগ আশাবাদী, দল আমার রাজনৈতিক জীবনের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করবে।

নাদিরা চৌধুরী
জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি নাদিরা চৌধুরী। তিনিও আশাবাদী, দল তাকে মনোনয়ন দেবে। নাদিরা চৌধুরী বলেন, নানা সংগ্রাম ও আন্দোলনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এ মুহূর্তে জেলার মানুষ আমাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়। এমপি হলে সবাইকে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।

ফরিদা পারভিন মেঘলা
জেলা বিএনপির সদস্য তিনি। বিগত শিবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত ওজিউল ইসলামের স্ত্রী এই মেঘলা। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পরও আমি হাল ছাড়িনি। জেলা বিএনপির একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে আমি সব আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। আমি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নির্ভীক নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও দলের মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করব।

সায়েমা খাতুন
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। একইসঙ্গে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি পদেও রয়েছেন। সায়েমা খাতুন বলেন, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন। এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ কাজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সায়েমা। 

শাহানাজ খাতুন
জেলা মহিলা দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শাহানাজ খাতুন। একইসঙ্গে তিনি ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। শাহানাজ বলেন, অতীতে আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। আশা করছি, দল আমার এই ত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে।

এ ছাড়া জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি দিলসাদ তাহমিনা বেগম মিমিও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, দলীয় ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ; সব মিলিয়ে তাদের প্রত্যেককে ঘিরেই আলাদা-আলাদা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। বিগত ১৭ বছরে যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, সাংগঠনিক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শেষ পর্যন্ত দল তাদের মূল্যায়ন করবে।

আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি নারী আসন পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট করলে পাবে ১টি আসন। তবে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। এক্ষেত্রে বিএনপির আরও একটি আসন বেড়ে ৩৬টি হবে। আবার জোটগতভাবে যদি বড় দলগুলোও নির্বাচন করে, তাহলে এই সংখ্যা হেরফের হবে।

ইতোমধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলগুলো জোট করবে কি না, সেই তথ্য জানাতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২ মার্চ) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব দল বিভিন্ন আসনে জয় পেয়েছে, তাদের আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জোটের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। দলগুলো জোটের তথ্য দিলে, সে অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে তা প্রকাশ করা হবে।