logo

ছুটি শেষে কর্মস্থলে, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্য ফিরছেন কফিনে

ছুটি শেষে কর্মস্থলে, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্য ফিরছেন কফিনে
ইমন আচার্য। ছবি : সংগৃহীত

মাত্র তিন মাস আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ইমন আচার্য। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর ভালোবাসার রঙে রাঙানো জীবন, সবকিছুই হঠাৎ থেমে গেল এক নির্মম ঘটনায়। সিলেটে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালেন র‌্যাব-৯–এর এই সদস্য।

শনিবার (২৩ মে) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ প্রথমে র‌্যাব-৯ হেডকোয়ার্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনরা মরদেহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে রওনা হন।

এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিলেট কোতোয়ালি থানার সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন আচার্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ওয়ার্ডের আশ্চর্যপাড়ার রঞ্জিত আশ্চর্যের ছোট ছেলে। এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা লাগোয়া কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী বসে মাদক সেবন করার সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে মাদকসেবীরা দৌড়ে পালাতে শুরু করলে ওই এলাকায় সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য পুলিশকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান। তিনি ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরেন। দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিসিইউ-২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে। বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসাবে সে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে পরিবারকে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে জিম্মি শিশুর প্রাণ রক্ষা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ আসাদুল আলম বাপ্পীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

হাসপাতালের মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমনের বড়ভাই সুজিত আচার্য। তার এই আহাজারি দেখে মর্গের সামনে উপস্থিত র‍্যাব সদস্য এবং অন্যান্য স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। কেউ তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এ সময় ইমনের স্ত্রী ছিলেন নির্বাক। বলছিলেন না কোনো কথা।

emon
emon

নিহত ইমনের কাকা হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাটের পশ্চিমে পশ্চিম ধলই উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য জানান, গত তিন মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ইমন। ফেব্রুয়ারি মাসে সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ছিল। এই অল্প দিনের মধ্যে তার স্ত্রীকে বিধবা হতে হলো। গত ১০ দিন আগে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থল সিলেট গিয়েছিল। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ পেলাম আমার ভাইপো আর এই পৃথিবীতে নেই।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ছিনতাইকারীসহ ১৬৬ জনকে আটক করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। তাদের মধ্যে মাদক, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও রয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে ইমনের মরদেহ প্রথমে র‌্যাব-৯ হেডকোয়ার্টারে নেওয়া হয়। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে রওয়ানা হন পরিবারের সদস্যরা। বড়ভাই সুজিত আচার্য মরদেহ গ্রহণ করেন।