logo

পাবনা/যমুনার পানি কমতেই তীব্র ভাঙন, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র

যমুনার পানি কমতেই তীব্র ভাঙন, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
যমুনার পানি কমতেই পাবনার বেড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যমুনা নদীর পানি কমতেই পাবনার বেড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। আকস্মিক এই ভাঙনে বসতভিটা, ফসলিজমি, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি, ভাঙন এখন যার ২৫০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই উপকেন্দ্রটি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর, বক্তাপুর, চর সিংহাস, লেউলাইপাড়া ও নতুন ভারেঙ্গাসহ তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে যমুনা। কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে, আবার কোথাও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে গভীর রাতে বা অল্প সময়ের ব্যবধানে সবকিছু নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বসতভিটা ও আসবাব সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না।

দুর্গতদের দাবি ত্রাণ বা সাময়িক অনুদান নয়, যমুনার ভাঙন রোধে সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই নদী রক্ষা ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। প্রতিবছর খণ্ড খণ্ড বরাদ্দে সাময়িক কাজ না করে পরিকল্পিত ও স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও মূল কাজ শুরু হতে হতে অনেক দেরি হয়ে যায়। এর মধ্যেই নদী গিলে নেয় ঘরবাড়ি, জমি ও নানা স্থাপনা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর কল্যাণপুর এলাকায় ভাঙনের কবলে পড়ে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের একটি খুঁটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এর পর ওই এলাকায় টানা প্রায় ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়ও জায়গাটিকে নিরাপদ মনে হয়েছিল। কিন্তু রাত ৮টার দিকে আকস্মিক ভাঙনে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের একটি খুঁটি নদীতে চলে যায়। পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত বদলায় যে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়ার সুযোগও মেলেনি। এখন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভাঙন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র ২৫০ মিটার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপকেন্দ্রটি চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী জানান, কল্যাণপুরসহ যমুনাতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।