কুমিল্লায় ফুফু-ভাতিজা হত্যা: পালানোর সময় ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার মোস্তাক

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন মোস্তাক আহমেদ আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা ও পালিত মেয়ে ইতি (১৮)।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মুরাদনগর উপজেলার দড়ানীপাড়া এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে খালেদা আক্তার বেবি ও তার ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম তিতুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নামে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে কুমিল্লা নগরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি হনুফা ও ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার মূল অভিযুক্ত মোস্তাক আহমেদ আবুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আবু ট্রেনে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাক আহমেদ আবু দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দুজনকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


