logo

লাইনে ১৭ ঘণ্টা, তবু ‘তেল পাব কি না জানি না’

লাইনে ১৭ ঘণ্টা, তবু ‘তেল পাব কি না জানি না’

পেট্রোলের আশায় ১৭ ঘণ্টা আগে থেকেই মোটরসাইকেল লাইনে রেখে অপেক্ষা করছেন চালকরা। এমনকি রাতভর লাইনে রাখা বাইক ‘পাহারা’ দিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার আশার মোড় এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেসার্স উত্তরা ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন সড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। পাম্পের কাছে জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়রা জানান, আগের রাতে দুই সারি করে মোটরসাইকেল রেখে পাহারা দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য প্রতি মোটরসাইকেল থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে ভোরে এসে দেখা যায়, সেই দুই সারি বেড়ে পাঁচ সারিতে দাঁড়িয়েছে। এতে লাইনে আগে থাকা চালকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

উপজেলার বেরুবাড়ী এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তেল না পেয়ে গাড়ি বের করতে পারিনি। রাতে শুনলাম এখানে তেল দেবে। লাইনে গাড়ি রেখে পাহারাদারের জন্য ৫০ টাকা দিয়েছি। সকালে এসে দেখি পরিস্থিতি বদলে গেছে।’ নাগেশ্বরী সদরের মজিবর রহমান বলেন, ‘সোমবার বিকেলেই লাইনে গাড়ি রেখেছি। এত কষ্ট করেও তেল পাব কি না, নিশ্চিত না।’

থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার উত্তরা ফিলিং স্টেশন ও এসএস ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। তবে সংকটের কারণে দুটি পাম্পেই দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় পেট্রোল সংকট শুরুর পর থেকে প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মোটরসাইকেলচালকরা।