কারও বাধায় নৌকাবাইচ বন্ধ হবে না: বিয়ানীবাজারের ইউএনও

কারও বাধায় সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধ হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা। এটি ‘তৌহিদী জনতা’ বা কারও বাধার কারণে থেমে থাকবে না। স্থানীয়রা বসে সমাধান না করতে পারলে, আমরা বসে সমাধান করে দেব।
‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবির পরে ইউএনও এসব কথা বলেন।
ইউএনও আরও বলেন, নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটি এবং যারা বাধা দিচ্ছে—তারা কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। বিষয়টি জেনে সমাধান করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। বিকেলে এলাকার লোকজন সভায় বসবেন। এটি সমাধান হয়ে যাবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কয়েকজন। পরে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও ২৮ আগস্ট বার্ষিক নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। অনেক বছর ধরে চলা এ প্রতিযোগিতায় অতীতে কোনো বাধার মুখে পড়েননি আয়োজকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফেসবুকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে। এতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বাসিন্দা বলেন, শত শত মানুষ প্রতিবছর এ নৌকাবাইচ উপভোগ করে। কিন্তু নিজের ঘর ঠিক নাই, পরের ঘর ঠিক করতে চায় এ রকম কিছু লোক থাকে। তারাই নৌকাবাইচ বন্ধে অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে ১১নং লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। বাধা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি, তবে কোনো পক্ষ আমার কাছে আসেনি।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ যথাসময়ে হবে। প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল শুক্রবার আমরা মিটিং করেছি। আজও সন্ধ্যার দিকে আরেকটা মিটিং আছে।



