logo

নেত্রকোনায় স্থানীয় নির্বাচনের গণসংযোগ ঘিরে হামালার অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় স্থানীয় নির্বাচনের গণসংযোগ ঘিরে হামালার অভিযোগ
মানচিত্রে নেত্রকোনা। স্বত্ত্ব: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) হামলা হয়েছে জানিয়ে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে হামলার সঙ্গে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুটের কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় নেতৃত্ব দেন মদন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আকন্দ ও তার ছেলে হাসান আল বান্না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে পারেন আফরোজা খাতুন মিলা। তিনি মদন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র শফিকুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী। প্রার্থী হওয়ার জন্য আফরোজা খাতুন গণসংযোগ শুরু করেছেন। এজন্য তিনি গত মঙ্গলবার কল্পনা বেগম নামে এক ভোটারের বাড়িতে যান।

তিনি ফিরে আসার পর ওই বাড়ির বাসিন্দাদের প্রতি ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের ছেলে হাসান আল বান্না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রায় ১৫-২০ জন কল্পনা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার লুটপাট, আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবাদ জানালে আফরোজা খাতুন মিলাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তাকে নির্বাচনে না দাঁড়ানোর জন্যও হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন না।

netrokona
netrokona

এ বিষয়ে আফরোজা খাতুন মিলা বলেন, আমার স্বামী মেয়র ছিলেন। সাধারণ মানুষের আগ্রহে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম আকন্দের এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলেছেন। কিন্তু আমি চলে আসার পর কল্পনা ও নাসিমের ওপর তারা হামলা করে। এটা খুবই লজ্জাজনক ঘটনা। ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ দিলেও মামলা নেওয়া হচ্ছে না। আমি নিজেও বিভিন্নভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি।

সেদিন হামলায় আহত হন কল্পনা বেগমের ভাই নাসিম খান। তিনি বলেন, যে কোনো প্রার্থী আমাদের বাড়িতে আসতে পারে। আমরা তো কাউকে নিষেধ করতে পারি না। কিন্তু বান্না কৈফিয়ত চায়। আমি বললাম যে কেউ আসতে পারে তাতে কি হয়েছে। কিছুক্ষণ পর শহরে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে তারা আমাকে মারতে শুরু করে। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা করে।

অভিযোগকারী কল্পনা বেগম বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। একজন প্রার্থীর প্রচারণা কেন্দ্র করে এভাবে হামলা করবে কল্পনাও করতে পারি না। বাসায় ঢুকে মারধর করেছে। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। থানায় মামলা না নিলে কোর্টে মামলা করব।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম আকন্দ। তিনি বলেন, নির্বাচন কবে কখন হবে তা এখনও অনিশ্চিত। এ নিয়ে ঝগড়া বা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর। আমার ছেলের দোকান থেকে বাকিতে সিমেন্ট নিয়েছিল নাসিম নামের এক ছেলে। টাকা চাইলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আমাকে হেয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বকেয়া টাকা নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।