ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃজেলা চোরচক্রের তিন সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪

ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকানে চুরি হওয়া ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যসহ চুরি করা ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কুকিবাজিত গ্রামের মৃত বাবু মিয়ার ছেলে মো. রাজু মিয়া (৩২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইর বাকপাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পশ্চিম পুড়াদিয়া গ্রামের মৃত আজম আলীর ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বোয়ালিয়া গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র সরকারের ছেলে শিখর চন্দ্র সরকার (৩০)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে (রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে) ঠাকুরগাঁও শহরের কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথের ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোর চক্র দোকান থেকে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার দামি ওষুধ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দোকানের মালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে চুরির সঙ্গে রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লালের সরাসরি সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। অনুসন্ধানের সূত্র ধরে বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে অভিযুক্ত এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন আসামি জানান, চুরি করা ওষুধগুলো তারা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে শিখরকে তার দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতবাড়ি ও দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া পুরো ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো দোকানের মালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ শনাক্ত করেছেন।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লাল আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।
-155eb7.jpg)