‘প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না’ বলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

এখানে প্রাইম মিনিষ্টার আইলেও কাজ হইব না, আমি ফাঁপরে ডরাই না—এমন বক্তব্য দিয়ে চাঁদা দাবির ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম রাতুল শিকদার অমি। তিনি গাজীপুর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রমিক নেতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতুল শিকদারের একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করতে এবং টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে শোনা যায় তাকে।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে রাতুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন ৫০০ টাকা। আজকে ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন ৫টা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই।’
একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন, তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইব না। এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না। আমি ফাঁপরে ডরাই না।’
অডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নজরে আসে এবং তদন্তসাপেক্ষে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোহানুজ্জামান শুক্কুর জানান, কল রেকর্ডটি শোনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন, সাতাইশ এলাকায় তাদের শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। পরবর্তীতে অফিস অন্যত্র স্থানান্তর করা হলেও সেখানে গিয়ে তারা চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালান। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় কয়েক মাস আগে তাকে জোরপূর্বক আটকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে ৬৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতুল শিকদারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
