অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া, ছাড়া পেলেন মুচলেকায়

শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়ানো, হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। এভাবে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে (৩৫) আটক করেছিল পুলিশ। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলের দিকে ঈশ্বরদী শহরের বকুলের মোড়, কলেজ রোড ও রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে কয়েকজন সহযোগীসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন তিনি। এ সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে তার অস্ত্র জমা দেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করে।
পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে বাপ্পীকে ঈশ্বরদী থানা থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত চারটার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাপ্পীর দাবি, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে হুমকিদাতা, মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাদের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ দিতেই তিনি কাফনের কাপড় জড়িয়ে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন।
তবে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের অভিযোগ, বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাপ্পীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যার পর ঈশ্বরদী থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। মেহেদী হাসানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত বাপ্পী পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে হাবিবুর রহমান দাবি করেন, বাপ্পী কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে নয়, বরং মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। একটি মহল ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো বৈধতা নেই। দলের কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, বাপ্পীর কাছ থেকে অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে এবং তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেন তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



