জনবল সংকটে ধুঁকছে কয়রা শিক্ষা অফিস, ১১ পদের ৭টিই শূন্য

খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ১১টি পদের মধ্যে সাতটিই শূন্য। মাত্র চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে একদিকে বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মরতদের, অন্যদিকে উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপ। দীর্ঘদিনের এ জনবল সংকট দ্রুত নিরসন না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে মোট ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন চারজন। শূন্য রয়েছে সাতটি পদ। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন তিনজন। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী দুটি এবং এমএলএসএসের একটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই চলছে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম।
শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তাদের। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি তাদের সামলাতে হচ্ছে নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ নানা দাপ্তরিক কাজ। জরুরি কিছু কাজ সম্পন্ন করতে বহিরাগত ব্যক্তিদের সহায়তা নিতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
১৪২ বিদ্যালয়ে ৮৭৪ শিক্ষক
কয়রা উপজেলায় ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ৮৭৪ জন শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় উপজেলা শিক্ষা অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মতো দায়িত্বও এ অফিসের ওপর রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে এসব কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা অফিসে জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজেও ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ এবং প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে দ্রুত সেবা পাওয়া নিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা অফিসে লোকবল সংকটের কারণে অনেক সময় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সব পদে লোকবল দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এতে দাপ্তরিক কাজে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে।
মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার বলেন, শিক্ষা অফিসের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এটি পুরোনো সমস্যা। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের পেশাগত সহায়তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নও জড়িত। উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তাই দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কয়রা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক কাজ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বহিরাগত লোকদের মাধ্যমে অফিসের জরুরি কার্যক্রমগুলো চালানো হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।