logo

অবহেলায় স্মৃতি কমপ্লেক্স, মুজিবনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্ষেপ

অবহেলায় স্মৃতি কমপ্লেক্স, মুজিবনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্ষেপ

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। অথচ এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে অস্বাভাবিক নীরবতা ও অনাড়ম্বরতার মধ্যদিয়ে। রাষ্ট্রীয় আয়োজন না থাকায় মেহেরপুরের মুজিবনগরজুড়ে বিরাজ করছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। মুজিবনগরের ঐতিহাসিক বৈদ্যনাথতলার আম্রকানন, যেখানে প্রতি বছর হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে সেখানেও নেই কোনো প্রস্তুতির ছাপ। স্মৃতিসৌধ চত্বরজুড়ে নেই দৃশ্যমান কর্মতৎপরতা, অনুপস্থিত জাতীয় দিবসের স্বাভাবিক আবহ।

মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে কোনো রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা না আসায় জেলা প্রশাসনও উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে প্রতিবছরের তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, কুচকাওয়াজ কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে মুখর পরিবেশের বদলে এবার দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। 

এদিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের বিপরীতে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কমপ্লেক্সে প্রায় ৬০০টি ভাস্কর্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সংঘটিত হামলায় এসব ভাস্কর্যের বড় একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি দল পরিকল্পিতভাবে কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে এবং সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। বর্তমানে গার্ড অব অনার ভাস্কর্যসহ অনেক স্থাপনা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। খোলা আকাশের নিচে থাকায় অবশিষ্ট অংশও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা যাই থাকুক না কেন, মুজিবনগর দিবসের গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যাওয়ার নয়। তাদের মতে, ১৭ এপ্রিলের শপথই প্রমাণ করেছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রীয় সংগ্রাম। স্থানীয় গাইড ও মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ মল্লিক বলেন, ‘দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকলেও আমরা ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে এসে সম্মান জানিয়েছি। আমরা যা করার ১৯৭১ সালেই করেছি। এখন আর কিছু বলার নেই। তবে যা দেখছি, তা কষ্ট দিচ্ছে।’ভেঙে ফেলা ভাস্কর্য। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এ বিষয়ে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসকে কেন্দ্র করে কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি। আমরা প্রস্তুত রয়েছি, নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেহেরপুরের মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স। ছবি : এশিয়া পোস্ট

১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৬ সালে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্মৃতি কমপ্লেক্সে একটি মানচিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরকে উপস্থাপন করা হয়। কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলির স্মারক ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছিল।