মিয়ানমার থেকে গুলি, টেকনাফে ২ কিশোর আহত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি দুই কিশোর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি নাফ নদী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার শেখ কামালের ছেলে মো. সোহেল (১৬) এবং একই এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৭)।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আহতদের উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকে) রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, মঙ্গলবার সকালে কিশোর সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ নাফ নদীর জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি সীমান্তে মাছ ধরতে যায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তারা গুলিবিদ্ধ হয়। আহতরা মাথা, হাত ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মো. সোহেলের মামা মো. ইসমাইল বলেন, গুলিবিদ্ধ আহত দুইজনই আমার আত্মীয়। সকালে তারা হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালী এলাকায় কেওড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এ সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া একাধিক গুলিতে তারা আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও বলেন, একজনের পা, বুকে এবং অন্যজনের বুকে গুলি লাগে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা ভয়ভীতির মধ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরে সকালে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোড়ার গুলিতে সুমাইয়া হুজাইফা (১১) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপরের দিন ১৩ জানুয়ারি একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আবু হানিফ (২৬) নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ আতঙ্কের দিন পার করছে।