logo

কাটছে বগুড়া আদালতের অচলাবস্থা, এক মাসের বর্জন করা কর্মসূচি স্থগিত

কাটছে বগুড়া আদালতের অচলাবস্থা, এক মাসের বর্জন করা কর্মসূচি স্থগিত
বগুড়া জেলা জজ আদালতের হলরুমে সাধারণ সভায় কথা বলেন বার সমিতির নেতারা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়ায় নতুন জেলা ও দায়রা জজ পদায়নকে কেন্দ্র করে জেলা জজ আদালতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অনুরোধ ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতি। আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে আইনজীবীরা নিয়মিত আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া জেলা জজ আদালতের হলরুমে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভা শেষে বার সমিতির নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রেজাউর রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম। সভায় জেলা জজের পদায়নকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি এবং আইনজীবীদের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

সভা শেষে সভাপতি শেখ মো. রেজাউর রহমান বলেন, বিতর্কিত পদায়নের প্রতিবাদে আইনজীবীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আদালত বর্জন করে আসছেন। পাশাপাশি মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা ও দায়রা জজকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে। বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে জরুরি সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদালত বর্জনের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে আদালত বর্জনের মূল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানান বার সভাপতি। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি শুধু এক মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা ও দায়রা জজকে নিজ উদ্যোগে বদলির ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি একটি ইতিবাচক পর্যায়ে এসেছে।

আইনজীবীদের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সরকারকে দেওয়া কোনো আল্টিমেটাম নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে সাধারণ সভা থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। রোববার থেকে সব আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি পিপি ও স্পেশাল পিপির কার্যালয়ের কার্যক্রমও পুরোদমে শুরু হবে।

নতুন জেলা ও দায়রা জজ পদায়নকে কেন্দ্র করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বগুড়া আদালতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। আইনজীবীদের আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার এজলাসে হট্টগোলের মুখে নবনিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে খাসকামরায় চলে যান। এতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।