লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে দোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা
-e46a74-720x405.webp)
লক্ষ্মীপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এ সময় বাধা দিতে গেলে এক ব্যবসায়ীর শরীরেও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের উত্তর তেমুহনীসংলগ্ন কালী বাজার রোড এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক এ ঘটনার সিসি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হামলায় আহত তিন ব্যবসায়ীকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত মূল আসামিসহ অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের উত্তর তেমুহনীসংলগ্ন কালী বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মো. দেলোয়ার হোসেন তার দুই সহযোগীকে নিয়ে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে তিনি দোকানে পেট্রল ছিটিয়ে দেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সময় দোকানের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তির শরীর ও মাথায়ও পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। পরে অন্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেলোয়ার এর আগেও কালী বাজার এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। সেলুন ব্যবসায়ী জগদিশ বাবুর কাছে প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং মোবাইল সার্ভিস ব্যবসায়ী কৃষ্ণপালের কাছেও একই পরিমাণ চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে তারা জানান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও দোকানে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও তার দুই সহযোগী পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. শরিফুর রহমান বলেন, একজন ব্যক্তি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে দোকানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে দোকানে এবং পাশে বসা একজনের মাথায় পেট্রল ছিটিয়েছেন। এটি জীবন বিধ্বংসী কাজ।
তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার কপি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।


