মালয়েশিয়া ও সৌদিতে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ময়মনসিংহের দুই যুবকের

মালয়েশিয়ার জহুর বারু শহরে ও সৌদি আরবের জেদ্দায় পৃথক দুর্ঘটনায় তাজ উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর মিয়া নামে ময়মনসিংহের যুবক মারা গেছেন।
এর মধ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ায় তাজ উদ্দিন এবং পরদিন শনিবার (২৯ আগস্ট) সৌদি আরবে জাহাঙ্গীর মিয়ার মৃত্যু হয়।
তাজ উদ্দিন ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের খুরশিদমহল গ্রামে মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
নাম জাহাঙ্গীর মিয়া গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের পালইকান্দা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। শাহজাহান মিয়া কুয়েতপ্রবাসী।
তাজ উদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে জহুর বারু শহরে একটি কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঘটনার দিন সকালে তাজ উদ্দিন কোম্পানিতে ক্রেনে করে মাল সরানো কাজ করছিলেন।
হঠাৎ ক্রেন থেকে মাল ছিঁড়ে নিজের মাথার ওপর পড়লে তাজ উদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরে শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার চাচা হাফিজুল হক ফেরদৌস বলেন, তাজ উদ্দিন গত তিন মাস আগে দেশে আসেন। পরে দুই মাস ছুটি শেষে এক মাস আগে মালয়েশিয়া ফিরে যান। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিল তাজ উদ্দিন।
তাজ উদ্দিনের মা হামিদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গফরগাঁওয়ের জাহাঙ্গীর মিয়া এক বছর আগে সৌদি আরবে যান। তিনি জেদ্দা শহরে বসবাস করতেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। শনিবার রাতে অফিস থেকে ফিরে বাসায় আসেন জাহাঙ্গীর।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যাওয়ার পথে সৌদি আরব সময় রাত ১২টার দিকে জেদ্দার একটি সড়কে কার রেসিং চলাকালে একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সৌদি আরবের পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখে।
জাহাঙ্গীর মিয়ার ফুফা জায়েদুর রহমান সুমন বলেন, জাহাঙ্গীর ১১ মাস বয়সি এক ছেলে সন্তানের বাবা। তার স্ত্রী, তিন বোন ও এক ভাই রয়েছে। তার বাবা কুয়েতপ্রবাসী। মরদেহ দ্রুত দেশে আসুক, এটাই চাওয়া।
এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু দুঃখজনক ঘটনা। মরদেহ দেশে আনার জন্য সব ধরণের ধরনের সহযোগিতা করা হবে।


