সাবেক এমপির গাড়ি ভাঙচুর

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দের গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চালককেও মারধর করে জখম করা হয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় তুলার গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে চারটার দিকে সেখানে যান আবুল বাশার আকন্দ। এ সময় তার গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় ও চালক মো. আরমানকে মারধর করেন।
এ ঘটনার পর পুলিশ আবুল বাশারকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিএনপির একটি পক্ষের সঙ্গে বাশার আকন্দের পক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবার বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচিত হন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট। আসনটিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আবুল বাশার আকন্দ। তিনি ফুলপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।
গাড়িতে হামলার ঘটনা সম্পর্কে আবুল বাশার বলেন, তুলার গোডাউন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি দেখতে যাই আমি। রাস্তায় আমার গাড়ি ও ড্রাইভার ছিল। ওই সময় মিঠুন (ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন) ও পল্লব (এমরান হাসান পল্লব) হামলা করেছে। এতে আমার গাড়ির চালক মো. আরমান আহত হয়েছে।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, আবুল বাশার কোন দল করেন, তা আমার জানা নেই। তিনি যদি বিএনপি নেতা হতেন, তাহলে অবশ্যই পাশে থাকতেন। তবে তার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার জানা নেই।
উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন বলেন, ‘সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি, বরং রিকশার পক্ষে (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) কাজ করেছেন। সে কারণে লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল। পোলাপানে গাড়ি ভাঙচুর করলে আমি গিয়ে ফিরাই। তিনি আমাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, হামলা পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। তখন পুলিশ গাড়িসহ সেখান থেকে চলে আসতে চাইলে রাস্তা কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে গাড়িসহ সাবেক এমপিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।