logo

বিয়ের প্রলোভনে চাচিকে ধর্ষণ, ভাতিজা পলাতক

বিয়ের প্রলোভনে চাচিকে ধর্ষণ, ভাতিজা পলাতক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুঃসম্পর্কের ভাতিজার বিরুদ্ধে। উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহজালাল ওরফে মন্ডলকে আসামি করে নাগেশ্বরী থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

রোববার (৩ মে) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী এলাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতেন। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সম্পর্কে চাচি-ভাতিজা হলেও অভিযুক্ত একাধিকবার বিয়ের প্রলোভন ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

গত ২৫ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে শাহজালাল ঘরের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্ত জানালা দিয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে থেকেই তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এত দিন গোপন রেখেছিলেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত শাহজালালকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, উভয় পক্ষই বিষয়টি তাকে জানিয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। তবে এর আগেই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাগেশ্বরী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং একই রাতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। আসামি পলাতক থাকায় তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।