‘দ্বীপ বালিকা’ এখন নিউজিল্যান্ডের পর্যটক পরিবারের ঠিকানা

নিউজিল্যান্ডের পর্যটক পরিবারের বিশ্ব ভ্রমণের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শেষ পর্যন্ত থেমে গেল কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে। হামলা, লুটপাট আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের পর্যটক পরিবারের ৪ সদস্য এখন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় রয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটসংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে দুটি ট্রলারকে এক করে ‘দ্বীপ বালিকা’ নামের তরিতে দেখা মেলে পরিবারটির সদস্যদের। নিরাপত্তার বলয়ে ঘেরা এই ট্রলারই এখন তাদের অস্থায়ী ঠিকানা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড পুডনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এসে তারা একটি কাঠের নৌকা তৈরি করেন। লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণ। এজন্য আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার নিবন্ধনও নেন তারা। তবে শুরু থেকেই এই পরিকল্পনাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাদের এমন যাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। গত ১ মার্চ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। তবুও সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে অবস্থান করছিলেন।
এরই মধ্যে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে তাদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রলারে লুটপাট চালানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ডের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে জন পুডনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি লুট হওয়া অধিকাংশ মালামালও উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি কোস্টগার্ডের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন এশিয়া পোস্টকে জানান, ৪ জন নিউজিল্যান্ড নাগরিক এখন তাদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের একটি অংশ ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে, বাকি অংশ উদ্ধারে কাজ চলছে।