প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটূক্তি করায় এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আটক এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এনসিপি নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী যুবদল নেতা রহুল আমিন মিঝি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে, শনিবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয়রা আনোয়ারকে আটক করে পুলিশে সৌপর্দ করে। এ সময় তাকে মারধর ও বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ছাড়া মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী রুহুল আমিন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে। তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা বাদী রুহুল আমিনদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকরমূলক কথা বলে আনোয়ার ফেসবুকে প্রচার করে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।
এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন জানান, প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সৌপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, আনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনোয়ারকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।
জেলা জজ আদালতের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, আনোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারে সাইবার সুরক্ষা এবং বাদীসহ স্বাক্ষীদের মারধরে দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।



