জয়পুরহাট/স্কুলকক্ষে খাট-বালিশ পেতে ঘুম, ১৪ অভিযোগে শিক্ষককে শোকজ
-ea8742-720x405.webp)
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি। তাকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলোর লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা কমিটির বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট সভাপতি আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশটি জারি করা হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা করতে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ৬টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে পাঁচটির কোনো নথি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। এ ছাড়া পরিচালনা কমিটি বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদন ছাড়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কুদ্দুসের বিএড সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে দুই দফা নিয়োগে সহায়তা, তদন্ত ও আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়া, শিক্ষকদের টাইম স্কেলের নথিতে জালিয়াতি, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রাখা, জাতীয় সংগীতে অনুপস্থিত থাকা, বিদ্যালয়ের কক্ষে খাট-বালিশ রেখে ঘুমানোর ঘর বানানো, বিদ্যালয় চলাকালে বাজারে আড্ডা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি মঞ্জুর করাসহ মোট ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যত্যয়ের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। পরিচালনা কমিটির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবলু কুমার মণ্ডল বলেন, বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ও অভিযুক্তের জবাব পর্যালোচনার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করতে এসব করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি লিখিত জবাব দাখিল করব।


