চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংকট, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

চুয়াডাঙ্গা জেলায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত ডিজেল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।
বর্তমানে উঠতি ফসলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। কিন্তু সময়মতো সেচ দিতে না পারায় অনেক জমিতে ফসল শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেচ পাম্প চালাতে ডিজেল না থাকায় জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরেও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা বলছেন, ডিজেল না পাওয়ায় জমি প্রস্তুত করতেও দেরি হচ্ছে। ফলে নতুন ফসল আবাদ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
কৃষকদের দাবি, এটি স্বাভাবিক সংকট নয়—বরং কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছেন।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছেন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
এদিকে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচাক মাসুদ সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র আছে। এসব সেচ যন্ত্রের জন্য দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজেলের তেমন ঘাটতি নেই। তবে অনেক কৃষক তার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংগ্রহ করছেন। এছাড়াও আগে গ্রামে-গঞ্জে ডিজেল বেচাকেনা থাকলেও বর্তমানে নেই, যে কারণে তেল সংকটের আশঙ্কায় কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় তেল সংগ্রহ করছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সময়ে গোপনে কৃষকদের কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে সেচনির্ভর ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।