logo
Advertisement

ভালো ফলনেও নওগাঁয় আউশ চাষিদের মুখে হাসি নেই

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
নওগাঁ, রাজশাহী
ভালো ফলনেও নওগাঁয় আউশ চাষিদের মুখে হাসি নেই
ক্ষেতে পাকা ধান। নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি ধানক্ষেতে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উত্তরের শস্যভান্ডারখ্যাত নওগাঁয় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের ফলন ভালো হলেও হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না চাষিরা। মোকামে ধানের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় বিঘাপ্রতি দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। সরকারিভাবে আউশ ধান সংগ্রহ না করা এবং ব্যবসায়ী-মিলারদের সিন্ডিকেটকে এই দরপতনের জন্য দায়ী করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে মহাদেবপুর উপজেলাতেই ১৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পারিজা, বিনা ধান-১৯ ও ব্রি ধান-৯৮ জাতের ধান চাষ করেছেন চাষিরা।

মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ও মোল্লাকুড়ি ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটাই-মাড়াই শেষে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন তারা।

কৃষকদের হিসাবমতে, এক বিঘা জমিতে আউশ আবাদে সার, সেচ ও মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে বিঘা প্রতি উৎপাদিত ধান বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায়। মোকামে ব্যাপারিরা শুকানো ভালো জাতের ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং ভেজা ধান ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে হাঁকাচ্ছেন।

ফড়িয়া ও ব্যাপারিদের দাবি, মোকামে চালের বেচাকেনা কম এবং বড় কোনো কোম্পানি বা ব্যবসায়ী বর্তমানে ধান কিনছে না। ফলে ধানের দাম নেমে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা জানান, সরকার আউশ ধান না কেনার সুযোগে ব্যাপারি ও মিলাররা সিন্ডিকেট তৈরি করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ধান ও খড় শুকানো কিংবা গোলায় তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

ধান মাড়াইয়ের পর বস্তায় ভরে নেওয়া হচ্ছে সংরক্ষণের জন্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ধান মাড়াইয়ের পর বস্তায় ভরে নেওয়া হচ্ছে সংরক্ষণের জন্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তারা বলছেন, বাজারে চালের দাম বাড়লে মিলাররা ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেন, কিন্তু বর্তমানে ধানের দাম নামমাত্র হলেও বাজারে চালের দাম কেন কমছে না। বোরো ও আমনের মতো সরকারিভাবে আউশ ধান কেনা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেতেন বলে মনে করছেন তারা।

মহাদেবপুর উত্তরগ্রাম মাঠের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, জমির ধান তারা নয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। বিঘা প্রতি খরচ ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। এতে করে তাদের ফসল উৎপাদন করে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাঠে ধান রোপণ থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত যে খরচ তাদের হচ্ছে তা তারা ধান বিক্রি করে তুলতে পারছেন না। মোকামে ধান নিয়ে গেলে ৬০০-৮০০ টাকা মনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মোল্লাকুড়ি মাঠের কৃষক আবু সাইদ সজল জানান, বাজারে ধানের দাম বাড়লে চালের দামের প্রতি তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু ধানের দাম কমলে চালের দাম কমে না। মাঠে কিষান দিয়ে কাজ করিয়ে সেটার খরচও তারা তুলতে পারছনে না।

তিনি আরও জানান, সরকার বোরো ও আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু আউশ মৌসুমে সরকার ধান সংগ্রহ করে না। সরকারি দামে যদি আউশ মৌসুমের ধান কিনে তাহলে প্রান্তিক কৃষক লাভবান।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ জানান, এ বছর মহাদেবপুর উপজেলায় ১৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। পারিজা, বিনা ধান-১৯, বিরি ধান-৯৮ জাতের ধানও চাষ করেছেন চাষিরা। তবে বাজারে ধানের দাম না থাকায় তারা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন। নওগাঁর কথা বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে আউশ ধান সরকারের পক্ষ থেকে কেনা হলে কৃষক কিছুটা হলেও লাভবান হবেন।।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকার জানান, আগের মৌসুমে কেনা ধানের চালের দামের সঙ্গে বর্তমান কাঁচা ধানের দামের সরাসরি তুলনা চলে না। চলতি আউশ ধানের চাল বাজারে পৌঁছাতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। নতুন চাল বাজারে আসার পর মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনবোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।