মাদক কারবারের বিরোধে ইসমাইল হত্যা: পুলিশ

খুলনায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার কেন্দ্র করে মো. ইসমাইল শেখ (৩৫) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কেএমপির আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে খুলনা সদর থানার বহিরবাড়ি বড় খানাপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে ইসমাইল শেখকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ফরিদিন খানকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান মোড়া (২৪) ও মো. সাইফুল হাওলাদারকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। ফরিদিন খানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ সাতটি মামলা রয়েছে। রায়হান মোড়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং সাইফুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ভাঙা শটগানের কার্তুজ, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নয়টি সিমকার্ড, ‘বি-কোম্পানি’ লেখা পাঁচটি গেঞ্জি, তিনটি সার্চলাইট, একটি কালো কলেজ ব্যাগ ও একটি চামড়ার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ‘বি-কোম্পানি’ গ্রুপের সদস্যদের পরিচয়চিহ্ন হিসেবে এসব গেঞ্জি ব্যবহার করা হতো। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় লবণচরা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
কেএমপির উপকমিশনার মো. রেজাউর রহমান জানান, হত্যা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য ও পরবর্তী তদন্তের সূত্র ধরে তিন আসামির নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।



