logo

ডিজেল সংকটে শঙ্কা হাওরে, বোরো আবাদ ঝুঁকিতে

ডিজেল সংকটে শঙ্কা হাওরে, বোরো আবাদ ঝুঁকিতে

কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। ফসলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচযন্ত্র সচল রাখতে মরিয়া কৃষকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার অজুহাতে জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ডিজেলের তীব্র সংকট। একদিকে জ্বালানির অভাব, অন্যদিকে চড়া দাম—এই দুই সংকটে পড়ে বোরো আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জেলার হাজারো কৃষকের।

হাওরবেষ্টিত এই জেলায় বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। এর ওপরই নির্ভর করে কৃষকের সারা বছরের অন্নসংস্থান ও ঋণের দায়মুক্তি। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে ডিজেল পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না চাহিদামতো জ্বালানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি সেচ পাম্প সচল রাখতে দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও অনেক পাম্প মালিককে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৭ লিটার। ফলে অনেক জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে হাওরের অনেক জায়গায় তা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

করিমগঞ্জ হাওরের কৃষক রুস্তম আলী আক্ষেপ করে বলেন, ধানের এই সময়ে পানি না দিলে সব শেষ হয়ে যাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছি না। যা-ও পাই, তার দাম অনেক বেশি। আমাদের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

একই সুর মিঠামইন হাওরের কৃষক সুজন মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, শীষ বের হওয়ার সময় সেচ না পেলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। উৎপাদন খরচ হু হু করে বাড়ছে, কিন্তু ধানের ন্যায্য দাম পাব কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বড় অংশই (১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর) হাওরাঞ্চলে। এই বিপুল পরিমাণ জমির ফসল এখন সেচ-ঝুঁকিতে।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, বোরো আবাদে সেচ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। কৃষকরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি পান, সে জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছি। কোনো ডিলার বা ফিলিং স্টেশন কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।