logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২ ইউপি ও সব উপজেলা ভবনে বসছে সোলার প্যানেল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২ ইউপি ও সব উপজেলা ভবনে বসছে সোলার প্যানেল
এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রশাসনিক কেন্দ্র ও গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলার পাঁচটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন এবং সব ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের ছাদ অথবা টিনের শেডে বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। এতে দাপ্তরিক ও জনসেবা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা পৃথক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটভুক্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ বরাদ্দ খাত থেকে এসব প্রকল্পের অর্থ ইতিমধ্যে ছাড়ও করা হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে উপজেলা পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারি মঞ্জুরি ও অর্থ ছাড়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলা—চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাটের জন্য উপজেলা প্রতি ২০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে পাঁচটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামের ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে জেলার পাঁচটি উপজেলার মোট ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রতিটি ইউপির জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বরাদ্দের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তবে জেলার মোট ৪৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩২টি এই প্রকল্পের আওতায় এলেও বাদ পড়েছে আরও ১৩টি।

বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন—বালিয়াডাঙ্গা, বারঘরিয়া, চরঅনুপনগর, চরবাগডাঙ্গা, দেবীনগর, গোবরাতলা, ইসলামপুর, ঝিলিম, মহারাজপুর, নারায়ণপুর, রানীহাটি, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর ইউপি ভবনে এই সোলার বসবে। শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন—চককীর্তি, দাইপুকুরিয়া, ধাইনগর, দুর্লভপুর, মোবারকপুর, মনাকষা, শাহবাজপুর ও শ্যামপুর সোলারের আওতায় আসছে।

পাশাপাশি গোমস্তাপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন—চৌডালা, গোমস্তাপুর, পার্বতীপুর, রাধানগর ও রহনপুর; নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়ন—ফতেপুর, কসবা, নাচোল ও নেজামপুর এবং ভোলাহাট উপজেলার দুটি ইউনিয়ন—দলদলী ও জামবাড়ীয়া পরিষদ ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত অপর একটি স্মারকে উপজেলার সব হাট-বাজারে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের টিনের শেড ও বহুতল ভবনের ছাদে ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল বসানো হবে। এতে বিদ্যুৎ চলে গেলেও অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

হাট-বাজারের এই প্রকল্পের জন্য আলাদা অর্থ ছাড় না দিয়ে হাট-বাজার ইজারার প্রাপ্ত আয়ের ১০ শতাংশ অর্থ এবং উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের ১০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে রাজস্ব আয় করবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা মনে করেছেন, এসব সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর ফলে দাপ্তরিক ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে এবং জনভোগান্তি কমবে। এই কথায় মত দিয়ে সচেতন নাগরিকরা জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদসহ নানা জরুরি কাজে হাজারো মানুষ আসেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেবাগ্রহীতা ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রে আসা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, এই সমস্যা চরাঞ্চলেও আরও বেশি। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ভোগান্তি ছাড়াই নাগরিক সেবা দ্রুতগতিতে মিলবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।