logo

শজিমেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, পা হারালেন কলেজছাত্র ইরাম

শজিমেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, পা হারালেন কলেজছাত্র ইরাম
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ইশতিয়াক জামান ইরাম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বগুড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাঁ পা ভেঙে যাওয়ার পর শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সরকারি বাণিজ্যিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরামকে (১৮)।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর প্রায় দুই দিন তাকে কোনো চিকিৎসক দেখেননি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক দেখতে এলে ইরাম জানান, তিনি পায়ের আঙুল নাড়াতে পারছেন না। এর পরপরই তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার পায়ের একটি নার্ভ ছিঁড়ে গেছে এবং সেখানে পচন ধরেছে। শেষ পর্যন্ত গতকাল রোববার রাতে অস্ত্রোপচার করে তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

ইরামের বাবা শাহাদৎ জামান মজনুরের অভিযোগ, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার ছেলের এই পরিণতি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইরাম বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে বউবাজার এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এতে তার বাঁ পা ভেঙে যায়। পরে বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

শাহাদৎ জামান বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে করে চিকিৎসকেরা জানান, ইরামের হাঁটুর জোড় সরে গেছে এবং পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। পরে পা প্লাস্টার করে তাকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

তাঁর অভিযোগ, বুধবার রাতে ভর্তির পর শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নার্স ছাড়া কোনো চিকিৎসক ইরামকে দেখতে আসেননি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে দেখতে এলে ইরাম পায়ের আঙুল নাড়াতে পারছেন না বলে জানান। এরপরই তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শাহাদৎ জামান বলেন, শুক্রবার রাতেই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। শনিবার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।

চিকিৎসকেরা জানান, পায়ের একটি নার্ভ ছিঁড়ে গিয়ে পচন ধরেছে। পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গতকাল রোববার রাতে অস্ত্রোপচার করে ইরামের বাঁ পা কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা।

ছেলের পা হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে শাহাদৎ জামান বলেন, চিকিৎসকের অবহেলার পাশাপাশি তার ছেলের চার বন্ধুকে শজিমেক হাসপাতালে আনসার সদস্যদের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে।

এ ঘটনার সূত্রপাতও হয়েছিল শজিমেক হাসপাতালে। ইরামকে ট্রলিতে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করা নিয়ে তার বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলিম্যানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে এ নিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গেও তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধরে চার আনসার সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ চার কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।

শাহাদৎ জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রলিম্যানের বকশিশ দাবির প্রতিবাদ করায় আমার ছেলের বন্ধুরা এখন কারাগারে, আদালত তাদের জামিন দিচ্ছে না। অন্যদিকে চিকিৎসকের অবহেলায় আমার ছেলে পঙ্গু হয়ে গেল। একসঙ্গে এত বড় দুটি আঘাত কীভাবে সহ্য করব?

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মুর্শেদ। তিনি বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ইরামের পা কেন কেটে ফেলতে হয়েছে, সে বিষয়ে অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে চার শিক্ষার্থীর জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, চার শিক্ষার্থীর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির জন্য বিচারক আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।