logo
Advertisement

বেঁচে নেই ৮ সন্তানের কেউ, মানবেতর জীবন চলছে বৃদ্ধ দম্পতির

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,সিরাজগঞ্জ
বেঁচে নেই ৮ সন্তানের কেউ, মানবেতর জীবন চলছে বৃদ্ধ দম্পতির
অনীল চন্দ্র সিংহ ও তার স্ত্রী সাগরিকা সিংহ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের উষাইকোল গ্রামের হতদরিদ্র অনীল চন্দ্র সিংহ ও তার স্ত্রী সাগরিকা সিংহ দম্পতি। এই দম্পতির জীবনে ঘর আলো করে একে একে জন্ম নেয় আটটি সন্তান। কিন্তু নির্মম এক বাস্তবতায় তাদের প্রতিটি সন্তানই জন্ম নেওয়ার মাত্র দুই থেকে চার দিন বয়সেই মারা যায়। শেষ বয়সে এসে বার্ধক্যের ভার ও চরম দারিদ্র্যের কারণে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

Advertisement

​বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ দম্পতির নেই কোনো কর্মক্ষমতা, যা দিয়ে তারা দু-বেলা দু-মুঠো খাবার জোগাড় করবেন। অভাবের তাড়নায় অনেক দিনই তাদের পেটে ঠিকমতো খাবার জোটে না। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। ​বার্ধক্যের এই সময়ে একটু শান্তিতে বেঁচে থাকার কথা থাকলেও, এই নিঃস্ব দম্পতির ভাগ্যে জুটেছে কেবল বুকভাঙা কষ্ট আর দুর্দশা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিলোক চন্দ সিংহের পুত্র অনীল চন্দ্র সিংহ ও সাগরিকা দম্পতি দীর্ঘ জীবনে আট সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। প্রতিটি সন্তানই জন্ম নেওয়ার মাত্র দুই থেকে চার দিন বয়সেই মারা যায়। একে একে সব সন্তান হারিয়ে জীবনের শেষ বয়সে এসে আজ তারা পুরোপুরি নিঃস্ব ও অভিভাবকহীন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

এলাকাবাসীরা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিত্তবান ব্যক্তিরা অনীল চন্দ্র সিংহ ও সাগরিকা দম্পতির পাশে দাঁড়ালে তারা দু-মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত একটি সরকারি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে অসহায় এই দম্পতিকে না খেয়ে মরতে হবে না।

অনীল চন্দ্র সিংহর স্ত্রী সাগরিকা সিংহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, আট সন্তানের বাবা-মা। কিন্তু একটি সন্তানও এখন বেঁচে নাই। সৃষ্টিকর্তা সন্তান দিয়েছিল, আবার সৃষ্টিকর্তাই তাদের নিয়ে গেছে। এখন আমাদের চলার মতো কোনো পথ নাই। বিএনপি সরকার এখন ক্ষমতায় আছে, তারা যদি আমাদের দেখে তাহলে একটু রক্ষা হয়।

অনীল চন্দ্র সিংহ বলেন, আট সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও কেউ বেঁচে না থাকায় এখন আমাদের দুর্দিন। আমরা (স্বামী-স্ত্রী) কেউ কর্ম করতে পারি না। এখন সরকার থেকে যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটিয়ে দিতে পারবো।

​তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। আমরা খুব দ্রুত খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।