logo

এবার কুমিল্লায় রাতে তরুণীর টাকা-মোবাইল ছিনতাই, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার

এবার কুমিল্লায় রাতে তরুণীর টাকা-মোবাইল ছিনতাই, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার
ছিনতাইয়ের শিকার তরুণী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লায় সড়কে এক তরুণীর টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ছিনতাইকারীদের কবল থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচতে ‘বাঁচাও, আমাকে সাহায্য করেন’ বলে চিৎকার করেন ওই তরুণী। তার চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে আতঙ্কিত তরুণীকে অন্য একটি অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তারা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর হয়ে তারাপাইয়া ঢালাই সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিদের ধারণ করা ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই তরুণী একটি মিশুকে করে টমছমব্রিজ নিজ বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে আরেকটি সড়ক দিয়ে লক্ষীনগর এলাকায় এনে তার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে এসে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চান। তার অভিযোগ, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল এবং তিনি যেতে না চাইলেও তাকে জোর করে অন্য পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

তরুণীর চিৎকার শুনে কাছের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ওয়ালিদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ওই তরুণীকে আতঙ্কিত অবস্থায় হাঁপাতে দেখেন। এ সময় তিনি সাহায্য চেয়ে বলেন, কে আছেন, আমাকে বাঁচান, সাহায্য করেন। আমি দৌড়ে পালিয়ে এসেছি। আমাকে ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

ওই তরুণী আরও জানান, তিনি চিপাই যেতে চান না বললেও তাকে জোর করে সেদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিদ জানান, ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার আগেই নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ চালু করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর কাছ থেকে ঘটনার কথা শোনেন। আশপাশে অভিযুক্ত কাউকে না পেয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিচিত আরেকটি অটোরিকশার ব্যবস্থা করেন। ওই অটোরিকশায় তরুণীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বলা হয়।

ওয়ালিদ বলেন, এই এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আমরা নিজেরাও অনেক ছিনতাইকারীকে ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই তরুণীর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি, তার ব্যাগে থাকা টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে গেছে। পরে এলাকাবাসী মিলে তাকে অন্য একটি অটোরিকশায় করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। তিনি খুব ভয়ে ছিলেন। তাই আমরা আর বিস্তারিত কিছু জিজ্ঞাসা না করে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বলি।

তবে ওই তরুণীর পরিচয় জানা যায়নি। তার কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলভী রহমান কুদ্দিসের অভিযোগ, তারাপাইয়া সড়কে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। সন্ধ্যার পর সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, ছিনতাই প্রতিরোধে আগাম পদক্ষেপও জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এমন ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার আলোচিত হত্যা তাজমিনকেও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সাহায্য চেয়েও কারও সহায়তা পাননি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যার শিকার হতে হয়। ওই ঘটনা সে সময় সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।