logo

কটূক্তি করা সেই কলেজছাত্রের জামিনে প্রতিমন্ত্রীর আইনি সহায়তা

কটূক্তি করা সেই কলেজছাত্রের জামিনে প্রতিমন্ত্রীর আইনি সহায়তা

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় গ্রেপ্তার সেই কলেজছাত্র নিশাদ ইসলাম (১৬) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পঞ্চগড় জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যান। এ সময় জেলা কারাগারের গেটে তাকে গ্রহণ করেন পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে, এদিন বিকেলে শিশু আদালতের বিচারক হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী তার জামিন মঞ্জুর করেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মিলন জামিন ও কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিশাত জামিনে থাকবে।

জানা গেছে, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট করেছিল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে নিশাদ ইসলাম। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম সাইবার সুরক্ষা আইনে কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অভিযুক্ত নিশাদ একজন কলেজশিক্ষার্থী। তার বয়স এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রীর প্রতীয়মান হয়, হয়তো না বুঝে বা কারও প্ররোচনায় সে এমন কাজ করেছে। এরপর তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ক্ষমাশীলতার দৃষ্টিতে দেখেন।

প্রতিমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে অভিযুক্তের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটি আমার সন্তানের বয়সি। ভুল হতেই পারে, তাই তাকে ক্ষমা করে দিলাম।’

এদিকে ছেলের মুক্তি পেয়ে নিশাতের বাবা আশরাফুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে না বুঝে ভুল করেছিল। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী যে উদারতা ও মহত্ত্ব দেখিয়েছেন, তা আমরা সারাজীবন মনে রাখব।’

জামিন পাওয়া কলেজছাত্র নিশাদ বলেন, ‘ছোট মানুষ হিসেবে ভুল করেছিলাম। প্রতিমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন এর থেকে বড় কিছু হয় না।’

নিশাদের আইনজীবী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন, ‘বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরে আমি নিজেই আসামির পক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ নিয়ে আদালতের নিয়ম অনুযায়ী আইনিপ্রক্রিয়া গ্রহণ করে জামিনের আবেদন করি। প্রতিমন্ত্রীর সহায়তায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘নিশাদ ইসলাম যেহেতু শিশু, তাই সে কারও প্ররোচনায় বা ভুল করে পোস্টটি করেছে বলে ধারণা করা হয়। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মানবিকভাবে বিবেচনা করেন এবং দেবীগঞ্জের সর্বস্তরের জনতার অনুরোধেও তাকে ক্ষমা করা হয়। এরপর তার বাবা আদালতে জামিনের আবেদন করলে তাকে জামিন দেন।’