logo
Advertisement

সাত দফার সঙ্গে তিস্তা, রংপুরমুখী লংমার্চে তিন হাজার গাড়ির প্রস্তুতি

সাত দফার সঙ্গে তিস্তা, রংপুরমুখী লংমার্চে তিন হাজার গাড়ির প্রস্তুতি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গাড়িবহর নিয়ে আয়োজিত এই লংমার্চ চলাকালে পথিমধ্যে পাঁচটি জেলায় পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের কার্যালয়ে লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমাবেশের সভাপতি ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছে। সাত দফা দাবির পাশাপাশি রংপুরের মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন করেই ১১ দলীয় ঐক্য রংপুর থেকে ফিরবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। এসব দাবির কথা সাম্প্রতিক ঘোষণাতেও ১১ দলীয় জোট জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের লংমার্চে তাদের লক্ষ্য ছিল এক হাজার গাড়ি। সেখানে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি অংশ নেয়। রংপুরের লংমার্চ নিয়েও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গাড়ি তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছে। তিন হাজারের বেশি গাড়ি বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন তারা।

মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান বলেন, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সভা হবে। এরপর গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। বিকেল ৫টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের এই রুট ও পাঁচটি পথসভার বিষয়টি এর আগে ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, লংমার্চের গাড়িবহরের পাশাপাশি বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। তার প্রত্যাশা, সমাবেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে।

এদিকে লংমার্চ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ৩০০ মাইক স্থাপন করা হয়েছে। ৩৫টি স্থানে এলইডি স্ক্রিন স্থাপন এবং ৩০টি স্থানে লংমার্চের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। লংমার্চ ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুর মহানগর পুলিশও প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের আমীর এ টি এম আজম খানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন উপস্থিত থাকবেন।