logo

জিলা স্কুল নাকি স্টেডিয়াম, কুষ্টিয়ায় ১১ দলের সমাবেশের স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

জিলা স্কুল নাকি স্টেডিয়াম, কুষ্টিয়ায় ১১ দলের সমাবেশের স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ফটক। ছবি : ফেসবুক থেকে পাওয়া

আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ শেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল চত্বরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। এ কর্মসূচিকে ঘিরে সমাবেশের স্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের প্রচার চললেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই দিনে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর সমাবেশের জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্যাডে আবেদন করেন দলটির জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ৮টি শর্তে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন।
শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ হবে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিক্ষোভ করেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জিলা স্কুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত। সমাবেশের স্থান নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, সেটিও দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের প্রচার চলছে, অন্যদিকে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতির কথা জানা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন বিভ্রান্তিতে না পড়েন, সে জন্য প্রশাসনের বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল বলেন, ‘কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা চাই, এই প্রতিষ্ঠান রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখুক। এখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হলে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ১১ দলীয় জোটের প্রতি আহ্বান, তারা যেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অন্য কোনো স্থানে সমাবেশ করে।’

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা জামায়াতের আমির এ কে এম খন্দকার আলী মহসিন দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ ছিল। বিভাগীয় কমিশনার অনুমতি দিয়েছেন।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করাই উত্তম। ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি।