রাজশাহীতে মনোনয়নের দৌড়ে সাবেক এমপিও, আলোচনায় ছয়জন

সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। এখন সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে দলটি। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। রাজশাহী থেকে মনোনয়ন পেতে সক্রিয় হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্যও। জেলা থেকে আলোচনায় আছে অন্তত ছয়জনের নাম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিল করা যাবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি আসন।
রাজশাহীর রাজনীতিকরা মনে করেন, তৃণমূলের ত্যাগী, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক অবদান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে এমপি নির্বাচন করা হবে দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।
আলোচনায় যারা
রাজশাহী থেকে এবারও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহান পান্না। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল মেয়াদে বিএনপি সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
আলোচনায় আছেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহমুদা হাবিবা।
তিনি এশিয়া পোস্টকে জানান, মাঠপর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা ছিল তার। তাছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার সক্ষমতা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দল বিবেচনা করতে পারে।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মহিলা দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকি বলেন, নারী আসনে প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করবে দলের হাইকমান্ড। তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বলতে পারি, সময়োপযোগী সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে যোগ্যদের বাছাই করা হবে।
এ ছাড়া আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে–জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রত্মা খাতুন, রাজশাহীর মহিলা দল নেত্রী আইনজীবী শামসাদ বেগম মিতালী এবং চারঘাট উপজেলা মহিলা দল নেত্রী নাজমা আক্তার।
রাজশাহীর মহিলা দল নেত্রী আইনজীবী শামসাদ বেগম মিতালী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যারা মাঠপর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অগ্রাধিকার পাওয়া দরকার। আমি ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করছি।
জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠকি সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর গণতান্ত্রিক চর্চার যে পরিবেশটি পাওয়া গেছে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।