logo

‘হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে কারাগারে ঢুকিয়ে দিল’

‘হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে কারাগারে ঢুকিয়ে দিল’

কক্সবাজারে মা ও মেয়েকে আদালতে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শনিবার (৭ মার্চ) ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের সাজা বাতিল করে বেকসুর খালাস দিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ আদালত। এরপর কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান জুবাইদা জান্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৪৮)। মুক্তি পাওয়ার পর তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর নিজের ও মেয়ের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী রেহেনা মোস্তফা রানু। তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার মেয়েকে পুলিশ প্রচণ্ড মারধর করে। মারধরের পর থানায় ইউএনও স্যার আসেন। আমরা তখন মনে করেছিলাম উনি আমাদের রক্ষা করতে এসেছেন। কিন্তু আমাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও কিছু বলেননি, উপরতলায় চলে যান। আমরা অনেক অনুরোধ করেছিলাম আমাদের বাঁচানোর জন্য, কিন্তু তিনি শোনেননি।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরে পুলিশ আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে সরাসরি কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়। পথে ইফতারের সময় হলেও পানি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রেহেনা মোস্তফা বলেন, ‘ইফতারের সময় পানির জন্য অনেক মিনতি করেছি। কিন্তু তারা পানি দেয়নি। অথচ তাদের হাতে ফ্রুটিকা ছিল। আমাদের ইফতারও করতে দেয়নি।’

রেহেনা জানান, তাদের শারীরিক অবস্থার কারণে কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে গ্রহণ করতে চাননি। পরে ইউএনও ফোন করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না এবং তাদের সামনে কোনো বিচারিক কার্যক্রমও হয়নি। তারা বলেন, ‘কক্সবাজারে এসে কারাগারে ঢোকার সময় জানতে পারি আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

ভুক্তভোগীরা জানান, জুবাইদা জান্নাতের জন্মের পরই তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যু হলে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জুবাইদা। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

চকরিয়ায় আদালত মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয় পেকুয়া থানাকে। সেখান থেকে তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই পল্লব কুমারের কাছে। জুবাইদার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য খরচাপাতির কথা বলে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন এসআই পল্লব।

কিন্তু পরে প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেন তিনি। এর প্রতিবাদ জানাতে থানায় গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন তারা। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে শুক্রবার পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, থানার ভেতরে তার সামনে পুলিশের ওপর হামলা করায় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেন। সাজার বিষয়টি অভিযুক্ত মা ও মেয়েকে সামনাসামনি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম দাবি করেন, ওই দুজন থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। তবে ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

শনিবার মা-মেয়েকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওসি খাইরুল আলম ফোন ধরেননি।