logo

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, ভোলায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, ভোলায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
ভোলার নাজিউর রহমান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি পালন করেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ভোলার মনপুরায় নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ভোলার নাজিউর রহমান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন। ‘নাজিউর রহমান কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আহত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া ভোলা নাজিউর রহমান মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ। তিনি মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

কর্মসূচিতে কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজ, পরাণগঞ্জ হালিমা খাতুন মাধ্যমিক মহিলা কলেজ, পরাণগঞ্জ হাইস্কুল ও পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেন।

কর্মসূচিতে কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনপুরা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়ার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিয়ার অভিযোগ, মডেল মসজিদে এশার নামাজ ও হাদিসের তালিম শেষে বের হওয়ার পর যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেন। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্যসচিব হাফেজ আবদুর রহিম। রোববার রাত ১১টার দিকে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দাবি করেন, এ ঘটনায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।

তাদের দাবি, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে মহিউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিমকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। ওই ঘটনার জেরে সেলিমের ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। অধ্যক্ষের অভিযোগকে তারা নিন্দা জানান। একইভাবে হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে দাবি করেছেন মনপুরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব হোসেন হাওলাদার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলিম ও তার স্বজনদের সঙ্গে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মচারী সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তা জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তার দাবি, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর হাত তোলেন।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।