রাজাপুরে দুই বাসায় চুরি, নার্সকে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার লুট

ঝালকাঠির রাজাপুরে গভীর রাতে একটি ভবনের দুই বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নওরীন (২৪) নামে এক নার্সকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় চোর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে রাজাপুর শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নওরীন ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী হাসপাতালে নাইট শিফটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার শাশুড়িও বাসায় না থাকায় ওই রাতে নওরীন একাই ছিলেন। গভীর রাতে চোর রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান বসানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চোর ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয়। পরে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে তার মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। একপর্যায়ে নওরীনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে নয় আনা স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একই পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মাদ্রাসাশিক্ষক মনোজের বাসার দরজাও খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে ওই বাসায় চোর প্রবেশ করেছিল কি না কিংবা কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আহত নওরীন ফোনকলে তার স্বামীকে বিষয়টি জানায়। তার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাজাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে বাড়ির মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার ডান হাতে পাঁচটি ও ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।



