স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষক অপহরণ, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ২ জন ধরা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অস্ত্রের মুখে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। পরে মুক্তিপণের অঙ্ক কমিয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে অপহরণকারীরা। তবে পুলিশের অভিযানে ওই শিক্ষককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে লোহাগাড়া থানা কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষকের নাম স্বরূপ কান্তি দাশ (৫০)। তিনি লোহাগাড়ার পদুয়া ওয়ার্ড বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছমদ আলী মুন্সীপাড়ার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. রফিক উদ্দিন (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলী সিকদারপাড়ার মৃত শাহ জাহানের ছেলে নেজাম উদ্দিন (৪৮)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন স্বরূপ কান্তি দাশ। সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে পদুয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি চক্র অস্ত্রের মুখে তাকে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষকের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী জেলী চৌধুরীকে ফোন করে অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা না দিলে শিক্ষককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনে কান্নার শব্দ শুনিয়ে এবং বারবার চাপ সৃষ্টি করে মুক্তিপণের অঙ্ক কমিয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তারা। ওই টাকা নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানার পরপরই অভিযানে নামে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষকের অবস্থান শনাক্ত করে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্বরূপ কান্তি দাশকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিক উদ্দিন ও নেজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি ছুরি, একটি গামছা, পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক এবং তিনটি কার্টিস পেপার জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা ওই শিক্ষকের বিভিন্ন সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে এ ঘটনা ঘটান বলে তারা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
