গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ৭ দিনে পাঁচজনের মৃত্যু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও ছাপড়হাটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে গত সাত দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন নারী-শিশুসহ আরও অন্তত আটজন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ।
স্বজনদের অভিযোগ, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোথাও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা মেলেনি। সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও ভ্যাকসিন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে বেশি দামে টিকা কিনতে হয়েছে। এতে চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাদের।
নিহতরা হলেন কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের আফরুজা বেগম (৪০), নন্দ রানী (৫৫), ফুলু মিয়া (৫২), সুলতানা বেগম (৩৯) এবং ছাপড়হাটি ইউনিয়নের রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। তাদের মধ্যে সুলতানা বেগম বুধবার নিজ বাড়িতে মারা যান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফজিতন নেছা, রুমিনা বেগম, নজরুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, গোলেনুর বেগম, মিতু আক্তার, আতিকুর মিয়া, লাবণ্য আক্তার ও বিজয় হোসেন।
নিহত রতনেশ্বর বর্মণের পরিবার জানায়, গত ২২ এপ্রিল কাজে যাওয়ার পথে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ক্ষতস্থানের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও জলাতঙ্কের টিকা ছিল না। পরে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও একই অবস্থা। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর বাইরে থেকে টিকা সংগ্রহ করা হলেও ততক্ষণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রতনেশ্বরের ভাই রবীন্দ্র কুমার বলেন, কুকুর কামড়ানোর পরপরই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাও টিকা পাইনি। পরে ওষুধের দোকান ও বেসরকারি হাসপাতালে খুঁজেও অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।
মন্ডলেরহাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, মানুষ হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু টিকা পাচ্ছে না। কয়েকজন মারা যাওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, তার এলাকায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো টিকা পাওয়া গেলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো যেত।
তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক দাবি করেছেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেননি। তিনি বলেন, এ মাসে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখন থেকে টিকা নিতে এলে কাউকে ফেরত যেতে হবে না।
গাইবান্ধার সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, অনেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই টিকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারপরও মৃত্যু হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আক্রান্ত এলাকায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়ার কথা। তবে তাদের কাছেও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহীদুল্লাহ লিংকন বলেন, গত ৪ এপ্রিল হাসপাতালটিতে এক হাজার ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দুই দিন আগে সেই মজুত শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে টিকা ছিল। আক্রান্ত ব্যক্তিরা কেন টিকা পাননি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।