logo

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কায় হাওড়ের ধান আগাম কাটার পরামর্শ

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কায় হাওড়ের ধান আগাম কাটার পরামর্শ

বৈরী আবহাওয়া পিছু ছাড়ছে না সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের। মার্চে নিয়মত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন হাওড়ে জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়ে কাঁচা ধান তলিয়ে ও পচে যাওয়ার পর এবার ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পানিতে আগাম বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পাউবো জানিয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ অন্যান্য নদীর উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক দিন নদ-নদীর পানি সমতল এলাকায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে কোনো সময় আগাম বন্যার পরিস্থিতি উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হতে পারে। 

তাই বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে যেসব জমির ৮০ ভাগ ধান পাকা রয়েছে, সেই জমির ধান দ্রুত কেটে তোলার অনুরোধ জানিয়েছে পাউবো।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ অঞ্চলে আগামী দুই-তিন দিন হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, এরপর ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। সুরমা নদীর পানি যদিও বিপৎসীমার ২ দশমিক ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে গতকাল নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হাওরের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের ছোট বড় ১৩৭টি হাওড়ের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। যার বাজার মূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য জেলার ১০ লাখ কৃষকের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার কৃষি শ্রমিক এসেছেন। জেলায় ধান কাটার ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ২৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার এনেছেন কৃষকেরা।

সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে ১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে কৃষকদের নিয়ে গঠিত ৭১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) বাঁধের কাজ করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, যেসব জমির ধান ৮০ ভাগ পাকা, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি ৬২৭টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। আজ বিকেল পর্যন্ত জেলার ৩০ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে প্রকৃতি এই বছর কৃষকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করছে।